August 17, 2026, 7:34 am
Title :
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা আজ জনসম্মুখে ডিএফওকে ফোন মন্ত্রীর, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’ তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না: হাইকোর্ট নরসিংদী জেল ভেঙে পালানো জঙ্গি জুয়েল বোমাসহ গ্রেফতার মুখে নয়, জনগণের সামনে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি

আইসিইউতেই ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী সুপারবাগ, আক্রান্তদের ৯০ শতাংশের মৃত্যু!

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 26, 2026
  • 18 Time View

নিবিড় পরিচর্যা কক্ষকে জীবনরক্ষার শেষ আশ্রয় হওয়া উচিত—তবে আইসিইউতেই ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিপজ্জনক চিত্র সামনে এনেছে আইসিডিডিআর,বি নেতৃত্বাধীন দুটি গবেষণা, যা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার একটি সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্ক আইসিইউতে (জুলাই ২০২৩–ফেব্রুয়ারি ২০২৪) ভর্তি ৩৭৩ জন ও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (ডিসেম্বর ২০২৩–সেপ্টেম্বর ২০২৪) ভর্তি ৩৬৩ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং সংস্কারের অভাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীদের মধ্যে প্রাণঘাতী অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সংক্রমণে যে রোগীদের কালচার রিপোর্টে রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া নিশ্চিত হয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশেরও বেশি দেখা গেছে।

গবেষণায় চার প্রকার গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—ইশেরিশিয়া কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ে, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউম্যানি ও পিউদোমোনাস অ্যারুজিনোসা—যেগুলো নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ, মূত্রনালী সংক্রমণ ও অস্ত্রোপচারের ক্ষত ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক অনেক সময় এগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। আগ্রহজনকভাবে দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় পূর্বে রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া না থাকা রোগীর প্রায় ৫৩% হাসপাতালে অবস্থানকালে এসব জীবাণুতে কলোনাইজড হয়েছেন, আর প্রায় ৪৮.৫% রোগীর অন্ত্রে আগেই এসব রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া ছিল—অধিকাংশেই উপসর্গ দেখা না গেলেও পরে এসবই প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নেয়। গবেষকরা সীমিত সুবিধা, রোগীর অতিভার ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিকে উচ্চ মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে দেখেছেন; হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ছড়িয়ে পড়ার ধারা শনাক্ত করা গেছে বলে গবেষণার প্রধান লেখক উল্লেখ করেছেন।

তবে আশা দেখিয়েছে যে কার্যকর সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা জোরদার করলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিকনির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতপরিষ্কার, পরিবেশ জীবাণুমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালালে মাত্র সাত মাসে রক্তপ্রবাহ সংক্রমণ প্রতি ১০০ রোগীতে ২৮ থেকে ৪ এ নেমে আসে—প্রায় ৮৬% হ্রাস—এবং একই সময়ে মৃত্যুহারও প্রতি ১০০ রোগীতে ২৬ থেকে ৪ পর্যন্ত কমিয়েছে। গবেষক ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতালকে আরোগ্যের স্থান হিসেবে রাখার জন্য অবিলম্বে আইসিইউ-এ আইপিসি-তে বিনিয়োগ, নিয়মিত নজরদারি ও দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com