গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল অজুস্যের পর এবার সিএনজি স্তরে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। তেলের সংকটের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক যে অস্থিরতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি—তাকে দায়ি করা হলেও একবিন্দু কমতি পরের দিনই পাম্পগুলোর সামনে সবাই মিলিয়ে না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখন সিএনজি স্টেশনে যে ভিড় দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে কি দাম বাড়ানোর বা অন্য কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করছে কেন—এমন সন্দেহও উঠেছে। খবর আছে যে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কমিশন বাড়ানোর দাবি নিয়ে ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সংকটে অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
মিডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অধিকাংশ স্টেশনে পাইপে গ্যাসের চাপ কমে গেছে; যেখানে চাপ আছে সেখানে যানবাহনগুলো ১০–১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গ্যাস পাচ্ছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে বিরতি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে রাজশাহীর কিছু পাম্পে ভিড় দেখা গেলেও পাম্প মালিক ও জেলা প্রশাসন বলছে তেলের বাস্তব ঘাটতি নেই—তবে যেকোনো গুজব দ্রুত চাহিদা তৈরি করে ফেলে। অন্যদিকে বাসায় গ্যাস না থাকায় মেসগুলোতে রান্না বন্ধ এবং মানুষ রেস্টুরেন্টে ভরসা করতে বাধ্য হয়েছেন, যা সাধারণ পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। অনেক ভোক্তা বদলে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিলও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অথচ পাইপলাইনের গ্রাহকদের মাসিক গ্যাস বিল—যেমন দুই চুলা ব্যবহারকারীদের জন্য মাসিক ১,০৮০ টাকা—মওকুফ হচ্ছে না।
সরকারি পক্ষ বলেছে সমস্যার একটি কারণ হচ্ছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে প্রযুক্তিগত ত্রুটি; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দুই-তিন দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু সমস্যা টিকেনি এবং কিছু রিপোর্টে বলা হচ্ছে সংকট আরও দুই সপ্তাহ থাকতে পারে। দেশে গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ২,৭০০–২,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট; ঘাটতি পূরণ হয় আমদানি করা এলএনজি থেকে। যদিও মাটির নিচে ও সমুদ্রে গ্যাসের সম্ভাবনা প্রমাণিত, দীর্ঘদিন যথেষ্ট অনুসন্ধান হয়নি—কয়েকজনের মতে আমদানিনির্ভরতা কিছু ব্যবসায়িক স্বার্থে মাধ্যমিক হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নতুন অনুসন্ধান জোরদারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক দরপত্রসহ উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—আশাসংকিত আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়লে উৎপাদন খরচ ও বাজেটে বড় প্রভাব পড়বে; তাই অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান বাড়ানো, বিদ্যমান ক্ষেত্র উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো জনগণের দৈনন্দিন সেবা নিশ্চিত ও সাশ্রয়ী করা—এমন সময় নীতিনির্ধারক এবং বাস্তব পদক্ষেপের তাড়াতাড়ি প্রয়োজন।