প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাস ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ নেতিবাচকভাবে কমে যাওয়ায় রান্নাবান্নায় স্বাভাবিকভাবে শেঠিলতা দেখা দিয়েছে এবং গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ভাত, তরকারি কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার তৈরি করতে ঘন্টা ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিতে গিয়ে এই দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে। মানুষ জানান, গ্যাসের চাপ এত কম যে চুলা জ্বালালেও আগুন বারবার নিভে যাচ্ছে এবং কখন ঠিক মাত্রায় গ্যাস আসবে তা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, ফলে রান্নাসহ বাড়ির অন্যান্য কাজও ব্যাহত হচ্ছে। বাড্ডার গৃহিণী মরিয়ম বলেন, সকালেই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে হয়, এরপরও দিনের বড় অংশ stove-এ বসে থাকতে হয় কারণ কখনো ভাত রান্নায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। মিরপুরের তন্নী আক্তার জানান, বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে এবং সব ধরনের রান্নাই করা যাচ্ছে না।
অনেকে এখন বিকল্প জ্বালানি—বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডার—ব্যবহার করায় খরচ বেড়েছে। যদিও শিল্প-কারখানার উৎপাদন ও পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়েছে, ঘরপরিবারে রান্নার গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে তীব্র। এ প্রসঙ্গে রোববার তিতাস জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি সরবরাহে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে; পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের অধিভুক্ত এলাকাগুলোতে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ থাকতে পারে।