ঢাকার মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা মামলার সূত্র ধরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা দাবি করেছে, প্রকৃত লক্ষ্য ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু। ডিবি জানায়, মাগুরা ও ঝিনাইদহের চার পেশাদার শুটারকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করেছিলেন কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান ওরফে ‘সিএনজি হাফিজ’। পরিকল্পিত হামলার আগেই সন্দেহভাজনদের তল্লাশির সময় গুলিতে ইউসুফ নিহত হন—এই তথ্য সোমবার (২৭ জুলাই) মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ঘোষণা করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তদন্তে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ; গ্রেফতারদের মধ্যে আছেন চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। পুলিশ বলেছে, বাবু ও ‘সিএনজি হাফিজ’ এর মধ্যে স্থানীয় ময়লা অপসারণের টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ি নিয়ে বিরোধ ছিল, আর সেই জের থেকেই হত্যার পরিকল্পনা গড়া হয়। সূত্রে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় ২৯ জুন হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়—অস্ত্র লোড করার সময় মিসফায়ারের কারণে—এরপর অভিযুক্তরা ২২ জুলাই ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকায় একটি হোটেলে নিযুক্ত হয়ে ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।
ঘটনার রাতে সন্দেহভাজনরা নিজেদের স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করলে তল্লাশি করতে গেলে একজন অস্ত্র বের করে সোজা ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে; এতে তিনি মারা যান এবং সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন। ডিবি জানিয়েছে, চারজনকে ভাড়া করার মূল্য ছিল ২৫ লাখ টাকা, চুক্তির একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল এবং হোটেল ও অন্যান্য খরচও বহন করা হয়েছিল। হাফিজকে এ কাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে; তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত অন্যান্য অস্ত্রের উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিচয়ের চাইতে সন্ত্রাসী/আপরাধী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা হবে।