সরকার ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ (পাতাল রুট) প্রকল্পের ডিপো নির্মাণের কাজ চীনা সংস্থা সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্যাকেজের সুপারিশকৃত চুক্তিমূল্য রিটার্নসহ মোট ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা ধরা হয়েছে এবং প্রকল্পটি বাংলাদেশের সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন সম্পন্ন হলেও খরচ ১০০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় বিষয়টি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেলে চূড়ান্ত করা হবে; এরপর পারফরম্যান্স গ্যারান্টি যাচাই ও চুক্তি স্বাক্ষ্যের কাজ করা হবে।
লাইন-১ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা আছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা; সরকারের অংশ ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ ও জাইকার ঋণ ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত আছে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৯.৮৭২ কিমি পাতাল মেট্রো ও নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১.৩৬৯ কিমি উড়াল রেলসহ মোট ৩১.২৪১ কিমি এই লাইন হবে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। ডিপো প্যাকেজে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ও কন্ট্রোল সেন্টার, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন উপকেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রাকযোগ্যতায় ১৭টি প্রতিষ্ঠান দলিল ক্রয় করলেও নির্ধারিত সময়ে চারটি প্রাকযোগ্যতা দাখিল করে, একটিকে বাদ দিয়ে তিনটি শেষ ধাপে যায় এবং সকলেই কারিগরি দিক থেকে উত্তীর্ণ হয়। আর্থিক মূল্যায়নে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ lowest evaluated bidder হিসেবে নির্বাচিত হয়; তাদের মূল দর ছিল ভ্যাট ও কর বাদে ৩ হাজার ৩৫৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা, পরবর্তীতে ভ্যাট, উৎসে আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক যোগের পর মোট চূড়ান্ত দর ৪,২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের একটি উড়াল প্যাকেজও চীনা যৌথ উদ্যোগকে দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যার অনুমানিক খরচ প্রায় ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং এতে চায়না রেইলওয়ে গ্রুপ, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও চায়না রেইলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের যৌথ অংশগ্রহণ রয়েছে। জাইকার নির্দেশিকা ও সরকারি ক্রয়বিধি মেনে দরপত্র প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তবে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়ন—বিশেষত ২০২৬ সালের মধ্যে—সম্ভব হবে না বলে কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন।