তান্ত্রিক পরিচয়ে নারীদের টার্গেট করে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত শুক্রবার কুমিল্লা ও নোয়াখালী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারা হলেন অহিদ মিয়া ওরফে কুয়েত (২৪), মাহে আলম (২৭) ও হাসান আলী (২০)। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। চক্রটি ভারতীয় সিম ও গুগল পে ব্যবহার করে ভারত থেকেও অর্থ সংগ্রহ করতো বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার রাজধানীর কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী সংবাদ সম্মেলনে জানান, খিলক্ষেতের এক নারী স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ক দূর করার আশায় ফেসবুকে ‘রহমত আলী কবিরাজ’ নামে একটি আইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীর কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা নেওয়ার পর ইমু ভিডিও কলে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও রসালো মিষ্টি ব্যবহার করতে বলা হয়। এতে তার হাতে গুরুতর রাসায়নিক ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে ক্ষত সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় গত ২১ জুন রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা করেন ওই নারী। পরে তদন্তে নেমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, চক্রটি বিভিন্ন নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। বিভিন্ন পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের নামে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও রসালো মিষ্টি শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবহার করতে বলত। এতে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ক্ষত সৃষ্টি হলে ‘জ্বীনের মাধ্যমে’ তা সারিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত। অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গত কয়েক মাসে একই ধরনের রাসায়নিক ক্ষত নিয়ে অন্তত ২০০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানায় পিবিআই।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ভারতে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেও একই ধরনের প্রতারণা চালাত। তারা গুগল পে দিয়ে অর্থ গ্রহণ করে পরে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে এনে আত্মসাৎ করত। ভুয়া তান্ত্রিক সেবার প্রচারণা বাড়াতে বিভিন্ন অ্যাড এজেন্সির মাধ্যমে নিয়মিত ফেসবুক পেজ বুস্টও করা হতো।
ফজলে এলাহী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।