যশোরের ভবদহ ভুক্তভোগী এলাকায় টানা বর্ষণে মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। মহিষদিয়া গ্রামের কলেজছাত্র জয় মন্ডলের বাড়ির উঠোন ডুবে যাওয়ার কারণে সাঁকো বেঁধে চলাচল করতে হচ্ছে; আলীপুরের সুজিত কুমার গরুগুলো রাস্তার উপর তুলেছেন এবং বাজেকুলটিয়ার বহ্নিশিখা জানান, টিউবওয়েল ও বাথরুম পর্যন্ত পানির নিচে চলে গেছে। বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, সড়ক ও উপাসনালয় ডুবে হাজারো পরিবার এখন উঁচু সড়কে বা আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন; প্রতিদিন পানি বাড়ায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেড়েই চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে আমডাঙ্গা খাল খনন না হওয়া, ভবদহের স্লুইচগেট ও সংশ্লিষ্ট নদীপথে পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন না করা। দুই বছর আগে আমডাঙ্গা খালের সংস্কারের কার্যাদেশ দেয়া হলেও কাজ শুরু হয়নি—যা ওই খাল থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সম্ভাব্যতাকে নষ্ট করছে বলেই অভিযোগ। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরি ও ভদ্রা নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খনন কর্মও অসম্পূর্ণ আছেন; খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে থাকা অস্থায়ী বাঁধ ও জমে থাকা পলি অপসারণ না হওয়ায় বর্ষার এই ঢেউ আরও তীব্র হয়েছে। জুলাইয়ে ব্যাপক বৃষ্টিতে ২৭টি বিল প্লাবিত হলে পানির ধারাবাহিক চাপের ফলে ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মাছের ঘেরও ডুবে গেছে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন—জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ ও কুলবাড়িয়া পর্যন্ত পলি পরিষ্কার, আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমিক টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণসহ পানিবন্দি মানুষের জন্য তৎক্ষণাৎ স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জল উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, খর্ণিয়ার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে, তিনটি স্লুইচগেট খুলে পানি দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই আরও গেট খুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করছেন।