জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশন পক্ষ ওবায়দুল কাদেরসহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতাদের টেলিফোনে কথোপকথনের বেশ কিছু রেকর্ড দাখিল করে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা এই কল রেকর্ডগুলো মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে।
দাখিলকৃত অডিও রেকর্ডগুলোর মধ্যে ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে ওবায়দুল কাদের ও আ জ ম নাছির উদ্দিনের কথোপকথন অন্যতম। সেখানে মুরাদপুরের সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা এবং একে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি, ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক, খায়রুজ্জামান লিটন ও তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথন থেকেও জুলাই আন্দোলনের সময় মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া গেছে।
রেকর্ডগুলোতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথনে কোনো একটি বিশেষ ফাইল প্রক্রিয়া বা সিদ্ধান্তের তাড়াহুড়োর বিষয়টিও স্পষ্ট হয়। এসব রেকর্ড জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারের কৌশল ও কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিবেচিত হচ্ছে, যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।