যশোরের চৌগাছায় পুলিশি হেফাজতে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুই ছাত্রশিবির নেতাকে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. রুহুল আমিন। রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনি জবানবন্দি দিতে গিয়ে জানান, ২০১৬ সালে আটকের পর তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের হাঁটুতে গুলি করা হয়। গুলির ক্ষতস্থান বালু দিয়ে বেঁধে অবহেলার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে পরবর্তীতে সংক্রমণের কারণে উভয়েরই হাঁটুর ওপর থেকে পা কেটে ফেলতে হয়।
সাক্ষ্য প্রদানকালে রুহুল আমিন জানান, গ্রেফতারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে এসপি ও ওসির উপস্থিতিতেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। রাজনৈতিক পরিচয় জানার পর তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে এবং ওসি মশিউর রহমানের উপস্থিতিতে এই পরিকল্পিত ‘ফায়ার’ করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের নির্মমতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য যে, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান ও ওসি মশিউর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে তিনজন কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক। গত এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।