গত দুই দশকের মধ্যে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এবারের গড় পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের আধিপত্য থাকলেও সামগ্রিক ফলাফলে বিপর্যয় নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূলত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দুটি বিষয়ে ফেল করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব, স্মার্টফোন ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পাঠদানে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এছাড়া বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতাকেও ফলাফলের এ অধোগতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এই ফলাফলকে ‘সুন্দর’ বলে অভিহিত করলেও শিক্ষাবিদরা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, বিদ্যালয় পর্যায়ে নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বোর্ড পরীক্ষায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কারিকুলামের অকার্যকারিতা এবং শিক্ষকদের যথাযথ মনোযোগের অভাবকে এর পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।