২০১৫ সালে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আগামী ২৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক কার্যক্রম শেষে এই আদেশ প্রদান করা হয় এবং একই সাথে মামলার পরবর্তী শুনানির দিনক্ষণও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের পেছনে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের যোগসাজশ ছিল। প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি নির্দেশনায় এবং পরিকল্পনায় এই ঘটনা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় জিয়াউল আহসানসহ র্যাব ও পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে টিএফআই সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে উত্তরার বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে ভারতের শিলংয়ে পাওয়া যায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তৎকালীন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সাতজনের বিরুদ্ধে গুমের এই মামলায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া জোরেশোরে এগিয়ে চলছে।