কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনো প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গত সোমবার অনুভূত হওয়া ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি ছিল দেশটিতে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে তীব্র ভূকম্পন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কালি ও পেরেইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে জোরেশোরে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত চোকো অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কবলে পড়ে দেশটিতে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম কালি শহরেই ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলস কাজ করছেন। বিশেষ করে একটি ধসে পড়া সাততলা ভবনের নিচ থেকে মানুষের সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা। এই ভবনটি ধসে পাশের একটি নার্সারি স্কুলের ওপর পড়ায় ১৭ জন শিশু আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের তথ্যমতে, বিপর্যয়ের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে আগে থেকেই বিদ্যমান সংকটের ওপর এই ভূমিকম্প নতুন করে মানবিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র মূল্যায়নের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের জন্য সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে অন্তত ২১টি আফটার শক রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।