শুক্রবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পাঠ করা শপথবাক্য পাঠের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হন। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন, যা বঙ্গভবনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে এক রাষ্ট্রীয় গাম্ভীর্যে রূপ দেয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ রাষ্ট্রীয় সকল শিষ্টাচার কঠোরভাবে পালন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একই মঞ্চে মন্ত্রিসভার রদবদল ও নতুন শপথের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চারজন মন্ত্রী—ড. আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরি—এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামীম কায়সার লিংকনকে শপথবাক্য পাঠ করান। ফলে এই বিশেষ সন্ধ্যাটি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি একটি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ারও সাক্ষী হয়ে থাকল।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে চারপাশের পরিবেশ ছিল বেশ নিয়ন্ত্রিত। প্রায় ১২শ থেকে ১৫শ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে মুখরিত বঙ্গভবনের অন্দরমহলে রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ছাপই ছিল স্পষ্ট। ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শপথ গ্রহণকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।