জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মাধ্যমে দেশে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এমন ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হয়নি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী মতাবলম্বীদের দমন করতে ‘আয়নাঘর’ ও নানা কালো আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও ভুক্তভোগীরা তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘ নিখোঁজ হওয়ার কথা জানান। এছাড়াও ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাদের বন্দিজীবনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। তারা সকলেই বিগত মাফিয়া সরকারের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, সফর শেষে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আইপিইউ গভর্নিং বডিতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন, যেখানে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের চিত্র উঠে আসবে।