নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং অবৈধ মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। কুখ্যাত ‘শ্রাবণ ওরফে কুত্তা শ্রাবণ গ্রুপ’ এবং ‘নবী গ্রুপ’ নামক দুটি গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাতের বেলায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারাবো বাজার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের এই আকস্মিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মহড়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি সন্ধ্যায় তারাবো বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নবী গ্রুপের চারজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটকের সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি সচল বিদেশি পিস্তল এবং বেশ কিছু তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়, যা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা অপরাধের সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। আটককৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হলেন নাজমুল হোসেন, নিহাল মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও শফিকুল ইসলাম। এই চারজনই নবী গ্রুপের মূলহোতাদের নির্দেশে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের গ্যাং কালচার ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের কথা রয়েছে। এছাড়া, পলাতক থাকা শ্রাবণ গ্রুপের সদস্য এবং নবী গ্রুপের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ টিমগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগণ আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে রূপগঞ্জ এলাকা অপরাধমুক্ত হবে এবং গ্যাংগুলোর দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে।