October 1, 2026, 9:26 pm
Title :
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরও কূটনীতির পক্ষে ইরান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, মেধাকে গুরুত্ব দিন: ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাফেজদের ‘নেক্সাস’ উপহার! নেপথ্যে কারা? পটুয়াখালীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত দর্জি থেকে ফ্রিল্যান্সার, প্রশিক্ষণ থেকে উদ্যোক্তা—তরুণদের সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে

প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পড়ে রেজিনা, অতঃপর..

Reporter Name
  • Update Time : Monday, September 7, 2026
  • 37 Time View

মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোরী রেজিনা কে. ওয়াল্টার্স এবং তার আঠারো বছর বয়সী প্রেমিক রিকি লি জোনস পরিবারের অমতে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন। নিজেদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা দুজন টেক্সাসের পাসাডেনা থেকে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজেদের এই যাত্রার পরিণতি যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না সেই তরুণ জুটির। দীর্ঘ পথ চলার একপর্যায়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই কিশোর-কিশোরীকে সদয় হয়ে ট্রাকে তুলে নেন রবার্ট বেন রোডস নামের এক দূরপাল্লার ট্রাকচালক। তখনো তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত ও ভয়ংকর একজন সিরিয়াল কিলারের ফাঁদে পা দিয়েছেন তারা।

বাইরে থেকে সাধারণ একজন ট্রাকচালক মনে হলেও রবার্ট বেন রোডসের ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক অন্ধকার জগৎ ও মোবাইল বন্দিশালা। নিজের ট্রাকে ঘুমানোর অংশের ভেতরে সে এমন সব মারাত্মক সরঞ্জাম ও হাতকড়া লুকিয়ে রেখেছিল, যা মানুষকে বন্দি করে নির্যাতন করার কাজে ব্যবহার করা হতো। এই চলনসই বন্দিশালার সুবাদে সে খুব সহজেই এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে ভুক্তভোগীদের নিয়ে যেতে পারত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হতো। নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পরিবার তাদের কোনো সন্ধান পায়নি, কিন্তু পরবর্তীতে রোডসের বাড়িতে চালানো তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া কিছু ছবি ও নথিপত্র এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের গোপন রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করে। তদন্তকারীরা রোডসের বাড়ি থেকে নারীদের নানা পোশাক, বাঁধার সরঞ্জাম এবং রেজিনার বেশ কিছু ছবি উদ্ধার করেন যা তার বন্দিদশার নির্মমতা প্রমাণ করে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে যে রেজিনাকে হত্যার আগে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর মুহূর্তের একটি ছবি স্বয়ং হত্যাকারী নিজেই তুলেছিলেন। সেই ছবিতে রেজিনাকে ভারী মেকআপ, লাল লিপস্টিক ও বিশেষ পোশাকে দেখা গেলেও তার চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ছিল, যা থেকে বোঝা যায় তাকে জোরপূর্বক সাজানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইলিনয়ের একটি শস্যাগার থেকে রেজিনার পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তে প্রমাণিত হয় যে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু রেজিনাই নয়, তার সঙ্গে থাকা রিকি লি জোনসের ভাগ্যও অত্যন্ত নির্মম ছিল এবং দীর্ঘকাল নিখোঁজ থাকার পর ১৯৯১ সালে মিসিসিপিতে তার মরদেহ পাওয়া যায় যা অনেক পরে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে রোডস নিজেই জেরার মুখে রিকিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার অপরাধের পরিধি ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে।

অ্যারিজোনার একটি মহাসড়কে রোডসের ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশ সেখানে গিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে, যার ফলে এই সিরিয়াল কিলারের কুকীর্তি সবার সামনে চলে আসে। পুলিশি জেরার মুখে ও তার বাড়িতে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে রোডসের অপরাধের বহুমুখী দিক উন্মোচিত হয় এবং সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্রাক স্টপ কিলার’ হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর রেজিনা ওয়াল্টার্স হত্যা মামলায় রোডস দোষ স্বীকার করেন এবং তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করায় তার শাস্তির মেয়াদ আরও বৃদ্ধি পায় এবং জীবনের বাকিটা সময় তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com