মিষ্টান্নপ্রেমীদের কাছে পুডিং সবসময়ই একটি লোভনীয় ও জনপ্রিয় খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাধারণ ডিমের পুডিংয়ের বাইরে বর্তমানে নানা নতুন স্বাদের পুডিং তৈরির রেওয়াজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ডেজার্টপ্রেমীদের মাঝে থাই সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকা ‘সাগু কোকোনাট পুডিং’ বেশ ভালোই সমাদৃত হচ্ছে। একই ধরনের গতানুগতিক মিষ্টান্ন খেতে খেতে মুখে একঘেয়েমি চলে এলে এই ভিন্ন স্বাদের থাই ডেজার্টটি দারুণ এক বিকল্প হতে পারে।
এই সুস্বাদু ডেজার্টটি তৈরি করতে খুব বেশি জটিল উপকরণের প্রয়োজন হয় না, যা সহজেই ঘরের আশপাশের বাজার থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। এর প্রধান উপকরণের তালিকায় রয়েছে আধা কাপ সাবুদানা, দুই কাপ নারিকেলের দুধ, এক চা চামচ জেলটিন, দুই কাপ ডাবের পানি, আধা কাপ চিনি, সামান্য লবণ এবং পরিবেশনের জন্য নারিকেলের খোল। সামান্য কিছু প্রস্তুতি আর সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলেই এই রাজকীয় পদটি ঘরে বসেই খুব সহজে বানিয়ে নেওয়া যায়।
প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রথমে সাবুদানাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পর্যাপ্ত পানিতে দশ থেকে পনেরো মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটি পাত্রে পরিমাণমতো পানি ও জেলটিন ফুটিয়ে নিয়ে তাতে ভেজানো সাবুদানাগুলো ঢেলে দিতে হবে। মাঝারি আঁচে অনবরত নাড়তে থাকতে হবে যেন সাবুদানাগুলো স্বচ্ছ বা কাঁচের মতো রূপ নেয়, এরপর তা নামিয়ে একটি মোল্ডে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। অন্য একটি প্যানে ডাবের পানি, জেলটিন, দুধ, চিনি এবং এক চিমটি লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটিয়ে ঘন ও ক্রিমি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে।
তৈরি করা সেই ঘন দুধের মিশ্রণটি সাবুদানার মোল্ডে ঢেলে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে ফ্রিজে সেট হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। এরপর আলাদা একটি পাত্রে ডাবের পানি, দুধ, চিনি ও ডাবের নরম শাঁস একসঙ্গে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। সবশেষে একটি নারিকেলের খোল বা বাটি পরিষ্কার করে তার ভেতর সাবুদানার বলগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে তার ওপর তৈরি করা দুধের মিশ্রণটি ঢেলে দিতে হবে।
চূড়ান্ত পর্যায়ে পুডিংটি আবার ফ্রিজে রেখে পুরোপুরি ঠান্ডা ও জমাট বাঁধতে দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঠান্ডা হওয়ার পর এটি ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করতে হবে। দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা এবং অনন্য স্বাদের কারণে এই কোকোনাট সাবুদানা পুডিং যে কোনো বিশেষ অতিথি আপ্যায়ন বা পরিবারের ছোট-বড় সবার মন জয় করতে সহজেই সক্ষম।