জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্বাস্থ্য সংগঠন ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স’ (এনএইচএ)-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএনপির সমালোচনাকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে কটু মন্তব্য করলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাহিদ রায়হান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আয়োজকরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও বক্তব্যে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শেষে জাহিদ রায়হান প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বক্তব্য দেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে এনসিপির তিনজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব ও জামায়াত ইসলামীপন্থী চিকিৎসক সংগঠন এনডিএফ-এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রণ জানানো হয় বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাহিদ রায়হানকে। শুরুতে তিনিসহ ড্যাব ও এনডিএফ’র নেতারা নতুন এই সংগঠনের আলোকিত ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভেচ্ছা জানান। এরপর এনসিপির নেতারা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অসংগতি তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানের এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল।
এরপর বক্তব্য দিতে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি প্রথমে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। এরপর আওয়ামী লীগের সময়ে অন্যায় নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার কথা বলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে বিএনপি সম্পর্কে নানা ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য দিতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, বিএনপির এখন করণীয় কী, সেই বিষয়েও পরামর্শ দেন তরুণ এই নেতা।
একপর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি যদি এক বছরের সফলতার কথা বলে, তাদের সফলতা দুটো— একটা হলো চাঁদাবাজি আরেকটা হলো মামলাবাজি। এই দুটো ছাড়া তাদের কপালে আর কোনো সফলতা নেই। এই দুটো নিয়ে তারা জনগণের সামনে গিয়ে ভোট চাইবে। ভোট নয়, মানুষ তাদেরকে জুতো দিবে।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ান ড্যাব নেতা ও বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চান। বিএনপিপন্থী যারা ছিলেন, তাদের ইশারা দেন তার সঙ্গে বের হওয়ার জন্য।
এ সময় বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিনাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি মাইক্রোফোন হাতে নিয়েই বলে ওঠেন, ‘যারা চাঁদাবাজ-মামলাবাজ তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবসময় কথা বলতে হবে।’
তখন হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে গিয়ে ডা. জাহিদ রায়হান দুই মিনিট সময় চেয়ে বলেন, ‘আমরা আসছি আপনাদের অনুষ্ঠানে। আমাদের দাওয়াত দিয়ে এনেছেন। আমাদের কেন দাওয়াত দিয়ে এনেছেন?’
তিনি হাসনাতের বক্তব্যের সময় কথা বলতে চাওয়ায় হাসনাতও তাকে বলেন, ‘একজন কথা বলার সময় আরেকজন কথা বলতে চায় না— এই মিনিমান সেন্স যদি আপনার না থাকে, আমি দুঃখিত। এই ভদ্রতা শেখেননি আপনারা। আমি আপনাকে একটা কমন ম্যানার শিখাই, একজন কথা বললে আরেকজন কথা বলতে হয় না। আপনার কাছ থেকে আমরা শিখব। আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না।’
তখন নতুন সংগঠনের অন্য নেতারা ডা. জাহিদকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। সেসময় ডা. জাহিদ রায়হান বলছিলেন, আমাদের কেন দাওয়াত দিয়ে আনা হলো আমি জানতে চাই। আমি একটি দলের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছি। কোথায় কী বলতে হবে, সেই সেন্সটুকু নেই।’
এরপর হাসনাত বলেন, ‘এটা তো শিষ্টাচার নয়। কেউ সমালোচনা করলে আপনার সেই সমালোচনা সহ্য করার শক্তি থাকতে হবে।’ হাসনাত তখন আর তাকে কথা বলার সুযোগ দেননি। পরে ডা. জাহিদ রায়হানকে নিয়ে তার আসনে বসান নতুন সংগঠনের নেতারা। হাসনাতের বক্তব্য শুরু হলে আসন ত্যাগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ৯ মিনিট পর তিনি আবার ফিরে এসে হাসনার আব্দুল্লাহর আসনে বসেন।
পরে ইশারায় এক মিনিট কথা বলতে চান ডা. জাহিদ রায়হান। কিন্তু তাকে কথা বলতে দিতে আগ্রহী ছিলেন না কেউ কেউ। অনুষ্ঠানের শেষে নতুন সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. আহাদ তাকে কথা বলার সুযোগ করে দেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের প্রচলিত একটি কথা আছে— ছেদ-জ্ঞান নেই। আমরা এখানে এসেছি শুভেচ্ছা জানাতে। আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। আর এসে শুনতে হলো আমাদের দল সম্পর্কে এসব কথা।’
এর আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ ১৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. শাদরুল আলম, সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ। মুখ্য সংগঠক ডা. মো. ইউসুফ জামিল তিহান, মুখ্য সমন্বয়ক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু।