জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় জাপা কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন স্থগিত না হলেও রাজনীতির মাঠে গত ১৪ মাস ধরে অনেকটাই কোণঠাসা জাতীয় পার্টি (জাপা)। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি মাত্র বৈঠকে অংশ নিলেও পরে ঐকমত্য কমিশন কিংবা সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে আমন্ত্রণ পায়নি দলটি। সরকার যেহেতু দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেনি কিংবা নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন বাতিল করেনি; সে কারণে নির্বাচনের বিষয়ে এখনো তারা আশাবাদী। ফলে নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০০ আসনেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ করেছে দলটি। তবে বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে দোসর তকমা অর্জনের মাধ্যমে অন্য সব দলের বিরাগভাজনে পরিণত হওয়ায় এখনো সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল পাচ্ছে না জাপা।
কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মরিয়া জাতীয় পার্টি। এককভাবে সম্ভব না হলেও জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যেতে চায় দলটি। ইতিমধ্যে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে একক না হলেও বিএনপি অথবা জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোটে যাবে তারা। নির্বাচনে অংশ নিতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে জাপা। যদিও জাপাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, জাপা নির্বাচনের সুযোগ পেলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসবে। তবে জাপার দাবি, তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে না।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টি বলছে, শেষ পর্যন্ত যদি ভোটে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল মেলে, তাহলে জোরেশোরে মাঠে নামবে তারা। দলের দুই অংশের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, প্রয়োজনে তারা বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর যেকোনো একটি দলের সঙ্গে জোটে যেতেও আগ্রহী। জাপার নেতারা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পরপরই তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, তা কেটে যাবে।
জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাপা নির্বাচনমুখী দল। ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি হলে জাপা অংশ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, জাপা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও পার্টির আসনসংখ্যা বাড়বে, একই সঙ্গে যে দলের সঙ্গে জোট হবে তাদেরও আসন ও ভোট বাড়বে।
পার্টির আরেক অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিগত দীর্ঘ বছর জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে। সেই জায়গা থেকে জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করতে চায়। তবে কোন প্রক্রিয়ায় বা কোন কৌশলে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে, সেটি আরও কিছুটা সময় পর জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।