মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। ২০১৫ সালের এই দিনে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে।
মুজাহিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে মুজাহিদের দায়িত্বপালন “সততা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার” উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার জামায়াত নেতৃত্বকে ‘শূন্য’ করতে চেয়েছিল, আর সেই ধারাবাহিকতায় “ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়” মুজাহিদকে দণ্ড দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিথ্যা সাক্ষ্য আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামের বেকসুর খালাস প্রমাণ করেছে যে পূর্বের রায়গুলো ছিল “অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও প্রহসনমূলক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যিনি মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই সাবেক প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, মুজাহিদসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের “ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে” ভবিষ্যতে দেশে একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি দলীয় জনশক্তিকে “অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে” আহ্বান জানান এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। শেষে তিনি মুজাহিদের জন্য দোয়া করে বিবৃতি শেষ করেন।
উল্লেখ্য, বিচার প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।