জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামের ভর্তি বাতিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিন্ডিকেট সভার সুপারিশ মেনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলা অনুষদের ডিন ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ছাত্রত্ব বাতিলের করায় সাধারণভাবে তার ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থিতা অবৈধ বিবেচিত হবে। তবে তার ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদ অবৈধ ঘোষিত হবে কিনা- এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস প্রার্থী রাশেদ খান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. সানাউল্লাহ হকের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিল করে সিন্ডিকেট থেকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সুপারিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ বুধবার চূড়ান্তভাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে রাব্বানীসহ তিন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।
কলা অনুষদের ডিন ছিদ্দিকুর রহমান খান সমকালকে বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিমিনোলজি বিভাগের গোলাম রাব্বানী, মেহজাবিন হক ও ফাহমিদা তাসনিম অনির ভর্তি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে যেহেতু ভর্তি প্রক্রিয়াটা অন্যায়ভাবে নেওয়া হয়েছিল। সেজন্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ভর্তি বাতিল করেছে।
কলা অনুষদের ডিন জানান, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল শুধু ভর্তির বিষয়টি দেখে। ফলে রাব্বানীর ডাকসুর জিএস পদের বিষয়টি এটির এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে স্বাভাবিকভাবে ছাত্রত্ব না থাকলে ডাকসুর ভোটার হওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ অবৈধ, ফলে পদটিও অবৈধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে।
বিষয়টি জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ভর্তি বাতিল হওয়ায় জিএস পদের ব্যাপারে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।