ধর্মীয় অনুভূতি, রাজনৈতিক ভাষ্য এবং জামায়াত নেতা শাজাহান চৌধুরীর বক্তব্য ঘিরে চলমান বিতর্কে, এবার মুখ খুললেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফাহম আব্দুস সালাম।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক সমালোচনামূলক স্ট্যাটাসে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ফাহম আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের নবী-রসূলরা যে কথা বলেন নাই, সে কথা জামায়াতের একজন নেতা বলেছে! তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্ট্যাটাসে ফাহম আব্দুস সালাম লিখেছেন, দেশের রাজনৈতিক ময়দানে ধর্মের নাম ব্যবহার করে বাড়াবাড়ি করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাঁর মতে, ইসলাম অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়, আর নবী–রসূলদের যে মর্যাদা নির্ধারিত, সেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তুলনা বা তার ওপরে তুলে ধরার মতো বক্তব্য কেবল অবিবেচকই নয়, এটি সরাসরি ধর্মীয় সীমালঙ্ঘন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামের কোনো নবী–রসূল নিজেদের প্রচার বা ব্যক্তিগত মাহাত্ম্য দাবি করে কথা বলেননি; অথচ আজকাল কিছু সংগঠনের নেতা–কর্মীরা এমন সব দাবি তুলছেন, যা ধর্মীয় অনুশাসনের সাথেও সাংঘর্ষিক।
ফাহমের অভিযোগ—রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে জামায়াত ইসলামী নিজেদের বক্তব্যে এমন ধর্মীয় আড়াল তৈরি করছে, যেখানে সাধারণ মানুষের সমালোচনার সুযোগ নেই।
তাঁর ভাষায়, “তৌহিদী জনতা” নামের একটি আবেগময় শব্দ ব্যবহার করে যেকোনও বক্তব্যকে ধর্মীয় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু একই ধরনের কথা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কেউ বললে সঙ্গে সঙ্গে ‘ধর্ম অবমাননা’ অভিযোগ আসে, যা দ্বৈত মানদণ্ডের স্পষ্ট উদাহরণ।
তাঁর বিশ্লেষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করলে সমাজে বিভাজন আরও গভীর হয়। রাজনীতির স্বার্থে ধর্মীয় আবেগ উসকে দিলে তা শেষ পর্যন্ত ধর্মকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন—একটি দলের নেতা কীভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করার সাহস পান, যা বলার সাহস নবী–রসূলরাও দেখাননি? এবং কেন এই বক্তব্যগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাহম আব্দুস সালামের এই স্ট্যাটাস ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
সোহাগ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলপন, রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান জরুরি। অনেক এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
তবে সমালোচক-বিশ্লেষক অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই স্ট্যাটাস রাজনৈতিক ইসলাম চর্চার সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে নতুন করে একটি আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।