বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কলসকাঠী বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে নবগঠিত কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম সজলসহ (৩৫) কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহত সজল তালুকদার ঘোষিত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিমের অনুসারী।
সংঘাতে জড়ানো একপক্ষ দলটির নবগঠিত কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লার এবং অপর পক্ষ পদবঞ্চিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এইচ এম হাসান ইমাম খোকন ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আবুল বাশার বকুলের অনুসারী।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২২ নভেম্বর উপজেলা বিএনপি কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয়। এতে মিজানুর রহমান নাসিমকে সভাপতি ও আল আমিন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে কলসকাঠী বাজারে নবগঠিত কমিটি আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে। একই সময় পদবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ডাকে। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিমের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা ঢাপরকাঠী বাজার থেকে কলসকাঠী বাজারে আসার পথে গোডাউনসংলগ্ন রোডে তাঁদের ওপর হামলা চালান পদবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিএনপি নেতা সজল তালুকদারসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন।
কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লা বলেন, তাঁরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে কলসকাঠী বাজারে ধানের শীষের সমর্থনে প্রচার মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীরা বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পদবঞ্চিত কিছু দুষ্কৃতকারী মিছিলে আসা নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে বিএনপি নেতা সজলসহ কয়েকজন আহত হন।
পদবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ নেতাদের নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এইচ এম হাসান ইমাম খোকন বলেন, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। এ খবর শুনে ঘোষিত কমিটির লোকজন আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন। দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তাঁদের সেই আনন্দ মিছিল প্রতিহত করেছেন।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ঘোষণা নিয়ে একই সময় এক পক্ষ আনন্দ মিছিল এবং অপর পক্ষ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।