বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানের পণ্য পরিবহনের প্রথম পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা ‘ট্রায়াল রান’ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাড়ে ৬ টনের একটি চালান বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এটি এখন বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভুটানে যাবে। কিন্তু ভারতের অনুমতি না পাওয়ায় প্রায় ৪৪ ঘণ্টা ধরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে রয়েছে পণ্যবাহী কনটেইনারটি।
বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতের ভেতর দিয়ে ভুটানে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রানশিপমেন্ট পণ্য পাঠানোর উদ্যোগ আটকে গেছে ভারতের অনুমতি না মেলায়। ফলে থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আসা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালানের কনটেইনারটি লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে দাঁড়িয়ে আছে।
জানা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে একটি জাহাজে এ বি ট্রেডিং লিমিটেডের পাঠানো ছয় ধরনের পণ্যের কনটেইনারটি সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবি ট্রেডিংয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো এই চালানে রয়েছে ফলের জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু ফ্লেভারের ক্যান্ডি, শ্যাম্পুসহ আরও কিছু পণ্য।
বাংলাদেশ–ভুটান প্রটোকল চুক্তির অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়— বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি চালান ভুটানে যাবে। চট্টগ্রাম থেকে কনটেইনারটি গতকাল ভোর ৪টার দিকে বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এরপর দুইদিনে কয়েক দফা প্রচেষ্টা চালিয়েও সেটি ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, চালানটি নিতে ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এখনো মেলেনি।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালানটি বুড়িমারীতেই আছে। ভারত অনুমতি দিলে সেগুলো ভুটানে পাঠানো সম্ভব হবে।
বুড়িমারী কাস্টমস স্টেশনের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানের চালানের সব কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন। ভারতীয় কাস্টমস অনুমতি দিলেই আমরা পণ্যবাহী কনটেইনারটি ভুটানের দিকে ছাড়তে পারব।