ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘লন্ডনের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ পরিচালনা করা যাবে না। এ দেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মাটি ও মানুষের নেতা হতে হবে। দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে গণমানুষের নেতা হতে হবে। কাজ ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আর শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করতে চাইলে দেশের জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে শনিবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে ছাত্র ও যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট-৪ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- সিলেট জেলার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, সহকারী সেক্রেটারি মাশুক উদ্দিন, ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সিলেট মহানগর শিবির সভাপতি শাহীন আহমদ, সিলেট জেলা পশ্চিমের সভাপতি জুবায়ের আহমদ, সেক্রেটারি তোফায়েল আহমদ প্রমুখ।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি দলের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী কাঠামো আর চলবে না। নতুন বাংলাদেশে জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকবে, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। কেউ যদি জনগণের অধিকার হরণ করতে চায়, তাহলে তার পরিণতিও শেখ হাসিনার চেয়ে খারাপ হবে।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে একটি প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, সেই প্রজন্ম ইনসাফের পক্ষে থাকবে বলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। ইতোমধ্যে দেশের তরুণরা ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ডাকসু, রাকসু, জাকসু ও চাকসুতে ইনসাফের প্রতিনিধিরা বিজয়ী হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে ইনসাফের প্রতিনিধিরা দেশের প্রতিটি আসনে জনগণের ভূমিধ্বস ম্যান্ডেড পেয়ে বিজয়ী হয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেবেন।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, অতীতে ভারত আমাদের অনেক জুলুম-নির্যাতন করেছে। ফ্যাসিস্টরা দিল্লির দালালিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল। এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর দিল্লির দালালি চলবে না। ভারতের প্রেসক্রিপশনে আর বাংলাদেশ চলবে না।
সাদিক কায়েম বলেন, আর সীমান্তে হত্যা চলবে না। সীমান্তে যদি একটি লাশ পড়ে তাহলে ১৮ কোটি জনগণ একসঙ্গে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে নামবে। বিগত সময়ের প্রতিটি সীমান্ত হত্যার বিচার হবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত করেন ভিপি সাদেক কায়েম। পরে বিকেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জুলাই স্মৃতি স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন, শাবিপ্রবি শাখা সভাপতি তারেক মনোয়ার, সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন প্রমুখ।