January 16, 2026, 3:48 am
Title :
ভোটকেন্দ্র সংস্কারে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, তদারকিতে কমিটি অপরিচিত নাম্বার থেকে মিঠুনকে হুমকি ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে হোয়াইট হাউসে পৌঁছেছেন মাচাদো খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী আজ না ফেরার দেশে ‘মিস ক্যালকাটা’ খ্যাত অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির পাসওয়ার্ড জটিলতা পোস্টাল ভোটারদের কল সেন্টারে যোগাযোগের আহ্বান ইসির ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের ‘ঐতিহাসিক যাত্রা’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ইয়াছিন, পেলেন সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা জবাবে সেনা পাঠাচ্ছে ইইউ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বরদাশত করবো না: জামায়াত আমির

ইসলামের আলোয় মানবিকতা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, November 30, 2025
  • 70 Time View

ইসলাম এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রতিটি আচরণ, ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নেতৃত্ব- সবকিছুতে নৈতিকতা, দয়া, ন্যায় এবং মানবিকতার সমন্বয় ঘটায়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে গড়ে ওঠা এই নৈতিক কাঠামো মানুষের হৃদয়কে পরিষ্কার করে, আত্মাকে শক্তিশালী করে এবং সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে। একজন সত্যিকারের মুসলিমের জীবনে তাই শান্তি, ন্যায়, সম্মান ও মানবিকতা প্রতিফলিত হওয়া স্বাভাবিক। ইসলামে নৈতিকতার সর্বোচ্চ রোল মডেল হলেন নবী মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ তাঁকে সর্বোচ্চ চরিত্রের অধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন ‘নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম-৪)।

রসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিতে পাঠানো হয়েছে। (সুনান আল-বায়হাকি-২০৭৮৫)।

মানবিকতা, দয়া, ন্যায়বিচার, ধৈর্য, সততা- সব গুণ তাঁর চরিত্রে বাস্তব রূপ পেয়েছে। তাই একজন মুসলিমের নৈতিকতার পথচলা শুরু হয় তাঁর আদর্শ অনুসরণ করার মাধ্যমে।’

ইসলাম বর্ণ, ভাষা, জাতি বা ধনসম্পদের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে না। প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

রসুল (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ সত্যিকার অর্থে মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা ভালোবাসে। (সহিহ বুখারি-১৩; সহিহ মুসলিম-৪৫)।

এই হাদিস মানবিকতার শিক্ষা দেয়, নিজেকে ভালোবাসার মতো অন্যকে ভালোবাসা, অন্যের কল্যাণ কামনা করা, এটাই সত্যিকারের ইমান। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল না হলে পৃথিবীতে কিছুই টিকে থাকত না।’ (সুরা ফাতির-৪৫);

দয়া ইসলামের মূল আত্মা। নবী (সা.) তাঁর অনুসারীদের জন্য দয়া ও কোমলতার শিক্ষা দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হবে না। (সহিহ বুখারি-৬০১৩; সহিহ মুসলিম- ২৩১৮) পরিবারে, সমাজে, কর্মক্ষেত্রে, এমনকি পশুপাখির প্রতিও দয়া করা ইসলামি চরিত্রের অংশ। ইসলামে সততা একটি উচ্চ নৈতিকতা হলেও এটি শুধুই আখলাক নয়, এটি ইমানের অংশ। নবী (সা.) আল-আমিন নামে পরিচিত ছিলেন, যার মানে বিশ্বস্ত।

হাদিসে এসেছে, সততা মানুষকে কল্যাণের পথে নিয়ে যায়, আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে টেনে নেয়। (সহিহ বুখারি-৬০৯৪; সহিহ মুসলিম-২৬০৭)

মিথ্যা, প্রতারণা, অঙ্গীকারভঙ্গ একজন মুসলিমের জীবনে অগ্রহণযোগ্য। সততা সমাজে বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা ন্যায়বিচারের ভিত্তি। শান্তি ও নৈতিকতা ন্যায়, দয়া, সম্মান, এগুলো প্রথম শেখা হয় পরিবারে। নবী (সা.) পরিবারকে শান্তি ও ভালোবাসার কেন্দ্র বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে নিজের পরিবারের কাছে উত্তম।’ (জামে’ তিরমিজি-৩৮৯৫); পরিবারে রাগ, অন্যায় বা অত্যাচার নয় বরং কোমলতা ও সম্মান ইসলামের নির্দেশ। পরিবারকে নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্র বানানোই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠা কর, তা নিজের বিরুদ্ধে হলেও।’ (সুরা আন-নিস-১৩৫); ইসলাম মনে করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত শান্তি নেই। নবী (সা.) ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ ছায়ায় থাকার সুসংবাদ দিয়েছেন।

হাদিসে এসেছে সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় রাখবেন তাদের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। (সহিহ বুখারি-৬৬০, সহিহ মুসলিম-১০৩১); ন্যায়বিচার শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; পরিবার, ব্যবসা, বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা একজন মুসলিমের পরিচয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘ক্ষমা করে দাও এবং উপেক্ষা করো; তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন?’ (সুরা আন-নূর-২২) এ আয়াত ক্ষমাশীলতার গুরুত্ব দেখায়।

নবী (সা.)-এর জীবন ক্ষমা ও মহানুভবতায় পরিপূর্ণ ছিল। ক্ষমা মানুষকে হীনতা নয় বরং শক্তিশালী করে। এটি সম্পর্ককে মজবুত করে এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের আলোয় মানবিকতা হলো এক আলোকিত পথ যেখানে রয়েছে দয়া, ন্যায়, সততা, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমাশীলতা ও সমতা।

কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা মানুষকে কেবল ধর্মীয়ভাবে নয়, নৈতিকভাবে শক্তিশালী, সমাজের জন্য উপকারী এবং মানবতার সেবক হতে নির্দেশ দেয়। একজন সত্যিকারের মুসলিম তাই শুধু ইবাদত করে না, বরং নিজের চরিত্র, আচরণ ও নৈতিকতায় ইসলামের সৌন্দর্য প্রতিফলিত করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com