December 1, 2025, 3:31 am
Title :
‘সমুদ্রে অবৈধ ও অতিরিক্ত মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে’ দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ রোগাক্রান্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের একমাত্র সমাধান: পোপ লিও সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা বেলুচিস্তানে এফসি সদর দপ্তরে হামলা, পাল্টা হামলায় ৩ সন্ত্রাসী নিহত হঠাৎ পাল্টে গেলো বাংলালিংকের লোগো, সামাজিকমাধ্যমে চলছে আলোচনা কক্সবাজারে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সঙ্গে এবার রেহানা-টিউলিপের রায় সোমবার খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য হাসিনা সরকার দায়ী: রাশেদ খান খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল, কিছুটা ভালোর দিকে: তথ্য উপদেষ্টা

দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ রোগাক্রান্ত

Reporter Name
  • Update Time : Monday, December 1, 2025
  • 17 Time View

দেশের অন্তত ৩৩ শতাংশ মানুষ রোগাক্রান্ত। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে অসুস্থতার হার বেশি। বিভিন্ন রোগের মধ্যে প্রকোপ বেশি উচ্চরক্ত চাপের। প্রতি হাজারে ৭৮ দশমিক ২৮ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। রোগে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা নেন না সবাই। চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের বড় অংশই সাধারণ ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এ হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে যান মাত্র ১১ শতাংশ রোগী।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে (এইচএমএসএস)’ নামের জরিপ প্রতিবেদনটি গতকাল রোববার প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হজুর আলী। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন ।

দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের ৪৭ হাজার ৪০ খানা বা পরিবারের এক লাখ ৮৯ হাজার ৯৮৬ জনের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। তথ্য সংগ্রহ করা হয় গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির মধ্যে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ৩৩২ জন, অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ মানুষ অসুস্থ ছিলেন। নারীদের মধ্যে অসুস্থতার হার প্রতি হাজারে ৩৫৪ দশমিক ছয়জন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩০৯ দশমিক দুইজন। পল্লি এলাকায় প্রতি হাজারে অসুস্থতার হার ৩৩৩ দশমিক ৩০ জন। এই হার শহরে ৩৩১ দশমিক শূন্য চারজন। রক্তচাপের বাইরে শীর্ষ ১০টি সাধারণ রোগের তালিকায় রয়েছে পেপটিক আলসার, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, চর্মরোগ, হৃদরোগ, হাঁপানি, অস্টিওপোরোসিস, হেপাটাইটিস ও ডায়রিয়া।

চিকিৎসা এখনও ডিসপেনসারিনির্ভর

জরিপে দেখা যায়, চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরতা এখনও বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ৫১ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, অসুস্থ হলে ওষুধের দোকান বা স্ব-চিকিৎসার শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিয়েছেন মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ শতাংশ। জরিপে তথ্য দেওয়ার আগের তিন মাসে জনপ্রতি চিকিৎসা ব্যয় দুই হাজার ৪৮৭ টাকা। চিকিৎসায় পুরুষের চেয়ে নারীর ব্যয় বেশি। এক নারীর ব্যয় দুই হাজার ৫৭৬ টাকা, যেখানে পুরুষের ব্যয় দু্ই হাজার ৩৮৭ টাকা।

সিজারিয়ান প্রসব প্রায় অর্ধেক

বিবিএসের প্রতিবেদন বলছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে সিজারিয়ান প্রসবের হার জাতীয়ভাবে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। শহরে এ হার ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ, গ্রামে যা ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। প্রসবপ্রতি গড় ব্যয় ২২ হাজার ৬৫৫ টাকা।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার হার ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এ হার পল্লি অঞ্চলের ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ তুলনায় সামান্য বেশি– ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দেশে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনে গড়ে ৫ দশমিক দুইজন কোনো না কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। নারীর মধ্যে প্রতিবন্ধকতার হার কিছুটা বেশি– প্রতি ১০০ জনে ৫ দশমিক তিনজন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এলাকাভেদেও সামান্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। শহরাঞ্চলে প্রতিবন্ধকতার হার ৫ দশমিক ৬ জন, যা পল্লি অঞ্চলের ৩ দশমিক একজন। ১০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় প্রতি পাঁচজনে একজনকে। শুধু শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার জেলা হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে।

তামাক সেবন করেন ১৬ শতাংশ নারী

বিবিএসের জরিপে দেখা যায়, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক সেবনের হার ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। গ্রামে এ হার ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ, শহরে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে হার ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ, নারীদের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মাদকদ্রব্য সেবনের হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হলেও ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি– শহরে মাসে গড়ে এক হাজার ৪২৭ টাকা, পল্লিতে ৫৫৬ টাকা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তা স্বাস্থ্য খাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বের কথা বলেন। এই জরিপে তথ্য জাতীয় বাজেট বরাদ্দ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নকশা, স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা এবং এসডিজি পরিবীক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com