January 17, 2026, 6:31 am
Title :
নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত, প্রতিবেদন জমা ২১ জানুয়ারি প্রার্থিতা হারালেন ১৭ জন ষাটগম্বুজ মসজিদ ও বাগেরহাট জাদুঘরের ই-টিকেটিং সেবা চালু গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে নতুনভাবে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন খুবই ‘ক্রিটিক্যাল’: অর্থ উপদেষ্টা আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শনে জামায়াত আমির ১২ তারিখের ভোটে প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু আস্থা নেই: রুহিন হোসেন প্রিন্স ধানের শীষে ভোট দিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে হবে: শফিক রেহমান ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রে মোসাদ প্রধান

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডাকসু নেত্রীর পোস্ট, ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, December 4, 2025
  • 60 Time View

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলণ্ঠিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারংবার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার ব্যত্যয় ঘটিয়ে যাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলাভবন, কার্জন হল-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনকে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে উদযাপন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ ঐতিহ্য হলেও, এবার তা একেবারেই হচ্ছে না দেখা গেছে।

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে উদযাপন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন দৃষ্টিকটু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অনীহার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস উদযাপনে প্রশাসনের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন অবহেলার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিগত প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত নির্বাচনে তথাকথিত প্রতিনিধি হয়ে যারা এসেছেন, তাদের বিভিন্ন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত মন্তব্য জাতির সামনে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে চরম অপমানের সম্মুখীন করছে। সম্প্রতি প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসুর বিতর্কিত মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ে যে বিবৃতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন, তা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ ইতিহাস বিকৃতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্যক্রম শুধরে নিয়ে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরজুড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান উপায়ে উদযাপন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশ্নবিদ্ধ ডাকসুর বিতর্কিত প্রতিনিধি কর্তৃক মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ধৃষ্টতাপূর্ণ অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এর আগে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয় ও নিজস্ব আত্মপরিচয়ে পরিচিত হওয়ার গৌরবের মাস। ব্রিটিশ শোষণের বিরুদ্ধে টিপু সুলতান, তিতুমীর, রজব আলী হাবিলদার, মঙ্গল পান্ডে, লক্ষ্মীবাইসহ, সহস্র শহিদ, যাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল ব্রিটিশ সরকার, তাদের ২০০ বছরের সংগ্রামের ফলেই আমরা পেয়েছিলাম ১৯৪৭-এর বহুল কাঙ্ক্ষিত বিজয়।’

‘বিজয়ের সুখ উপভোগের আগেই দুর্ভাগা এই অঞ্চলে আবারও নেমে আসে শাসন নামে শোষণের অন্ধকার। সেখান থেকেই বাংলা ও বাঙালির রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষার জন্ম। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা হয়। সহস্র শহিদের রক্ত, সহস্র বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড। আমাদের শহিদেরা আমাদের দিয়ে গেলেন একটুকরো লাল সবুজের পতাকা, নতুন নিজস্ব একান্ত ভূমি, দেশ, জাতীয়তা।’

‘তথাপি, আমাদের রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো না। স্বৈরাচার, দুঃশাসন, দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, হেজিমনি, গুম-খুন, বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পীড়নে এইটুকু দেশ ও দেশের মানুষ বারবার ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। ২০২৪ আমাদের সামনে আরেকবার সুযোগ এনে দিয়েছে রাষ্ট্র-আকাঙ্ক্ষা পূরণের। এ পথে সফল হওয়ার সময় কারা কারা ৭১-পরবর্তী সময়ের মতো গাদ্দারি করলো—একদিন ইতিহাসে তাদের নামও উচ্চারিত হবে; দ্বিগুণ ঘৃণায়।’

‘মহান বিজয়ের মাসের শুরু আজ, আমাদের নতুন আত্মপরিচয় দেওয়া সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা—যাদের রক্তের মূল্যায়ন আমরা কোন বারই করতে পারি না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com