ইসলামের দৃষ্টিতে সব সৃষ্টি মিলে একটি পরিবার। এক হাদিসে গোটা সৃষ্টিকে ‘আল্লাহর পরিবার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সবসৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। (আল বায়হাকি; আত-তিরমিজি, মিশকাত : ৪৯৯৮)
পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেমন পরস্পরের কল্যাণকামী হয়, হতে হয়, তেমনি শরিয়াতের মিজাজের চাহিদা হলো, মানুষকে, একজন মুমিনকে সকল সৃষ্টির প্রতি কল্যাণকামিতার মনোভাব পোষণ করতে হবে। পরিবারের একজনের কষ্ট যেমন সকলের কষ্ট, একজনের সুখ যেমন সকলের সুখ, তেমনি মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সকল সৃষ্টির কল্যাণকে নিজের কল্যাণ বলে ভাবতে হবে। অন্যের অকল্যাণ, অমঙ্গলকে নিজের অকল্যাণ ও অমঙ্গল বলে মনে করতে হবে।
একটি হাদিসে বিষয়টিকে সাধারণ মূলনীতি বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘অপরের কল্যাণকামিতার নামই হলো দ্বিন। ইসলাম হলো মঙ্গলাকাঙ্খার নাম।’ (ইমাম বুখারি; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ : ৫৫)
একবার এক সাহাবিকে দেখে নবীজি (সা.) বলেছিলেন, ইনি একজন জান্নাতি মানুষ। এরূপ কথা তিনি একের পর এক তিনদিন বলেছিলেন। জনৈক সাহাবি ঔত্সুক্য নিবারণের জন্য এই সাহাবির সঙ্গী হয়ে যান এবং তিনদিন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন। পরে তাঁকে বলেন, আপনার তো আলাদা কোনো বিশেষ আমল দেখলাম না; কিন্তু নবীজি (সা.) তিনদিন ধরে এ কথা বলেছেন যেএখন মসজিদে এমন একটি লোক প্রবেশ করবে, যে হলো জান্নাতি। আর এই কথার পর তিনদিনই দেখলাম আপনি এসে মসজিদে প্রবেশ করলেন। বিষয়টি কী?
এই সাহাবি বলেন, আমি তো কারণ জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি যে পৃথিবীর কারো ক্ষেত্রে আমার মধ্যে কোনো অমঙ্গচিন্তা নেই। (ইমাম আহমদ, আল মুসনাদ : ১২২৮৬)
আরেক বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবী (সা.) বলেছেন, এমনভাবে ভোর ও সন্ধ্যা করবে যে, কারো প্রতি তোমার অকল্যাণচিন্তা নেই। (ইমাম আহমদ, আল মুসনাদ : ১২৬৯৭; ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান : ১০৬৩৩)
বর্ণিত আছে, একটা তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি খেতে সাহায্য করায় একজন জনপদবধূ নারীকে আল্লাহপাক ক্ষমা করে দিয়েছেন। (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ : ৩১৪৩)
পক্ষাক্ষরে একটা বিড়ালকে না খেতে দেয়ায় একজন নেককার নারীকেও জাহান্নামি হতে হয়। (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ : ৩১৪০)
এই ক্ষেত্রে নবী (সা.) একটি অতিসুন্দর দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। বলেছেন, ‘নিজের জন্য যা পছন্দ করো, তোমার অন্য ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে।’ (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ : ১৩)