শাহবাগে অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচীতে গণচাঁদা উত্তোলন একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আকিফ আব্দুল্লাহ, যিনি একজন সাধারণ সমর্থক, শুধু এক ঘণ্টায় প্রায় ১,০৫,৮৫৩ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। তবে এই চাঁদা উত্তোলন ইনকিলাব মঞ্চের পাশাপাশি সাধারণ সমর্থকদের নজরে আসলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে আকিফ আব্দুল্লাহ নামক একজন সাধারণ সমর্থক অবস্থান কর্মসূচীতে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের আপ্যায়নের কথা উল্ল্যেখ করে নিজের বিকাশ নম্বরে অর্থ সহায়তা ও অনুদান চেয়ে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ১ লাখ টাকার বেশি চাঁদা পেয়ে যান।
মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ক্রমান্বয়ে অর্থ আসতে আসতে এটি ১,০৫,৮৫৩ টাকায় পরিণত হয়। শুরু থেকেই একাধিক ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি সংগ্রহিত অর্থের পরিমাণ জানাতে থাকেন। এটি দেখেই, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ডাকসু সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা চাঁদা সংগ্রহের এই পদ্ধতির প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সাধারণ সমর্থক ও অবস্থানকারীকে এভাবে চাঁদা উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন,
“এভাবে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে গণচাঁদা উত্তোলন করা সঠিক নয় এবং এটি ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আমি সকলকে বলব, গণচাঁদা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে।”
অপর দিকে আকিফ আব্দুল্লাহর ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিক্রিয়া দেখার সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচীতে যোগদেয়া সাধারণ সমর্থকদের জন্য গৃহীত অর্থের বিস্তাটিত হিসাব পরবর্তী দিন সকালেই ইনকিলাব মঞ্চ সংশ্লিষ্ট মুখপাত্র বরাবর দাখিলের ঘোষণা দেন। একই সাথে আকিফ আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সবাইকে নতুন করে কোন অর্থ সহায়তা না পাঠানোর জন্য ফেইসবুকে একটি পোস্টের বরাত দিয়ে অনুরোধ করেন। তিনি লিখেন,
“আমি আগামীকাল ইনকিলাব মঞ্চ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে হিসাব দাখিল করব। পাশাপাশি আমি সামাজিক মাধ্যমেও হিসাব দাখিল করব, যাতে সবাই জানে এই চাঁদার টাকা কিভাবে ব্যবহৃত হবে।” তিনি আরও বলেন, “যেহেতু চাঁদা উত্তোলনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে, সেহেতু এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে করা হবে।”
বিষয়টি ঘিরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা জানিয়েছেন, চাঁদা সংগ্রহের এই পদ্ধতি পুনঃমূল্যায়ন করা হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসারে ভবিষ্যতে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি পরিচালিত হবে। এছাড়াও তারা আশাবাদী যে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিক্ষোভ কর্মসূচী আরো শক্তিশালী হবে এবং সমাজিক উদ্দ্যোগে শহীদ ওসমান হাদির খুনের বিচার প্রকৃয়া আরো দ্রুত তরান্বিত হবে।