মুক্তিযুদ্ধের বিজয় আমাদের অহংকার’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় উৎসব। মহান বিজয় দিবসের আবহে ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও আকাশে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রুহুল আমিন মুকুল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসাইন, আবদুল মাবুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল মতিন আজাদ, ক্রীড়া সংগঠক ডিএম রুস্তম, সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার এম. নাছির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্যুৎ মজুমদার দেবদূতসহ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, কো-চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, আহ্বায়ক সুবিমল পাল পান্না ও সদস্য সচিব নাছির উদ্দিন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, “বিজয় মেলা শুধু একটি উৎসব নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন করে জাগ্রত করতে চাই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শহীদ দৌলত ময়দান থেকে বের করা হয় এক বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ময়দানে এসে শেষ হয়।
পরে বিজয় মঞ্চে শুরু হয় শিল্পীদের নান্দনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই বিজয় উৎসবকে ঘিরে শহীদ দৌলত ময়দান যেন রূপ নিয়েছে প্রাণের মেলায়। মেলায় স্থান পেয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি বাহারি পিঠাপুলি, হস্ত ও কুটির শিল্পের চোখ ধাঁধানো নানা পণ্য। এসব স্টল ঘিরে দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আয়োজকরা জানান, বিজয় উৎসবের প্রতিটি দিনে থাকবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণ, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।