জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতার মতো অসংক্রামক রোগ শতকরা ৮০ ভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ‘রোগীর ক্ষমতায়ন : অসংক্রামক রোগব্যবস্থাপনায় টেকসই অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে এই তথ্য ঊঠে এসেছে। এতে বলা হয়, জীবনযাত্রায়পরিবর্তন আনার মূল চারটি ভিত্তি হলো- সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারিরীক পরিশ্রম, ভাল ঘুম তথা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও তামাক জাতীয় ক্ষতিকর অভ্যাস বাদ দেওয়া।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস-২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর গ্রিন রোডস্থ ইউনিকো হাসপাতালে স্মার্ট হেলথকেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ লিমিটেড আয়োজিত সিম্পোজিয়ামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটো মেটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীন।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, ডায়াবেটিস হলে ভাত বন্ধ নয় বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খুব কম শর্করা গ্রহণ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিটো ডায়েটের কারণে বিভিন্ন রোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। খুব কম শর্করা গ্রহণে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫১ শতাংশ, স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫০ শতাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. তাবাসসুম পারভীন বলেন, বাংলাদেশ অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সুনামির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ঘটছে অসংক্রামক রোগ থেকে। যার মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও ক্যান্স্যার উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ন্যাশনাল হেলথ ফোরাম কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ খান বলেন, জীবনযাত্রা বদলাতে পারলে রোগীদের সমস্যা অনেকাংশে কাটানো সম্ভব। জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন বড় ফল দেয়। যাদের কথা মানুষ সহজে গ্রহণ করে অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের জড়িত করতে পারলে তা ভবিষ্যৎ বদলে দেবে।
স্মার্ট হেলথকেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক রওশন আরা বেগম, অধ্যাপক শারমিন ইয়াসমিন, অধ্যাপক কহিনুর বেগম, ডা. আমিনুল হাসান, ডা. জাকির হোসেন, অধ্যাপক মোজাহেরুল হক, আদ দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক ঝিকরগাছা মডেলের উদ্ভাবক ডা. এমদাদুল হক, ইউনিকো হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদ্রা কুরিয়েন। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শর্মিলা হুদা।
অনুষ্ঠানে ২৫ জন বিশিষ্ট চিকিৎসক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ৬ জন সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাকে সম্মাননা জানানো হয়। স্মার্ট হেলথ কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ লিমিটেডের সঙ্গে সিম্পোজিয়াম আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ইমসেন বাংলাদেশ, ইউনিকো হাসপাতাল পিএলসি এবং ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ ফোরাম।