আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে শতভাগ নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশি বা ‘বডি সার্চ’ জোরদার করতে হবে। এমনকি, কেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকল প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশও দেন তিনি।
ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র বা প্রশ্ন-সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি বলেন, অটোপাসের সুযোগ আর থাকবে না। মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে সরে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দেশের শিক্ষাকাঠামো শক্তিশালী করতে নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এসব স্কুল প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে পরিচালিত হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন হচ্ছে
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক যুগোপযোগী করতে বড় ধরনের পরিমার্জনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।