ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার এক নতুন সমীকরণ দেখালো ‘পোস্টাল ব্যালট’। সাধারণ ভোটের লড়াই শেষ হওয়ার পর প্রবাসীদের ভোট এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যালট যখন খোলা হলো, দেখা গেল সেখানে বড় ব্যবধানে বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই খাতে জামায়াত একাই পেয়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট।
শনিবার (৭ মার্চ) ইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথম প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড ভোটের ব্যবস্থা করায় বিশাল সংখ্যক ভোট জমা পড়ে। মোট ১৫ লাখ ২০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৬৪ হাজার জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫.৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট (৩০.২৮%)। এছাড়া নতুন দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৫ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই পোস্টাল ব্যালটের জোয়ারে দুটি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলই পাল্টে গেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ এবং মাদারীপুর-১ আসনে সাধারণ ভোটে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও পোস্টাল ভোটের গণনায় শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা। সিরাজগঞ্জে রফিকুল ইসলাম খান এবং মাদারীপুরে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সাধারণ ভোটের ব্যবধান ঘুচিয়ে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
হাই-প্রোফাইল প্রার্থীদের লড়াইয়েও পোস্টাল ভোটের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা-১৭ আসনে স. ম. খালিদুজ্জামান পোস্টাল ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমান জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ রেকর্ড পরিমাণ পোস্টাল ভোট পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই নতুন ভোটিং পদ্ধতি নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব নাটকীয়তা যোগ করেছে।