রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সরকার ঘোষিত ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে হতাহত পরিবারগুলো। তারা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ন্যায়বিচার, শহীদি মর্যাদা, পুনর্বাসন, স্মৃতিরক্ষাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত শিক্ষার্থী নাজিয়া ও নাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২১ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন। ওই দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ২৮ শিক্ষার্থী, তিনজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষিকা ও একজন পরিচারিকা মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। আহত হন ১৭২ জন। এ দুর্ঘটনায় আমি আমার দুই সন্তান নাজিয়া ও নাফিকে হারিয়েছি। কেউ কেউ একমাত্র সন্তান হারিয়ে নিঃসন্তান হয়ে গেছেন। এমনকি কয়েক পরিবার নির্বংশ হয়েছে।’
আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মাধ্যমে প্রথমে শহীদ পরিবারকে ২০ লাখ ও আহতদের পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। পরে জানতে পারি, শহীদ পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি এবং আহতদের সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব উপদেষ্টা সভায় উঠবে। আমরাও সেটি প্রত্যাখ্যান করছি।’
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাঁচ দাবির মধ্যে আছে— বিমানবাহিনীর ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে এবং মাইলস্টোন স্কুল বিল্ডিং কোড না মানায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধানের দুর্নীতি এ দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই দুর্নীতির অর্থ উদ্ধার করে তারা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়, যাতে পরিবারগুলো ভবিষ্যৎ জীবন ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম নিরাপত্তা পায়। উপস্থিত অভিভাবক বলেন, জীবনের মূল্য অর্থ দিয়ে পরিমাপ সম্ভব নয়। তবে সন্তানদের নামে কিছু করার সুযোগ থাকলে কিছুটা শান্তি পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি, সনদ প্রদান ও সংশ্লিষ্ট সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণে মনুমেন্ট নির্মাণের দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে প্রতিবছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা, উত্তরা এলাকায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবর স্থায়ীভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হয়।
হতাহত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ এমনভাবে অবহেলা, দুর্নীতি ও অনিয়মে বিপর্যয় ঘটাতে সাহস পাবে না।