রাজধানীর রমনা থানাধীন মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত ‘আলোকিত ইনসান’ নামে একটি রিহ্যাব সেন্টারে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাশেদুল ইসলাম তানভীর (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত তানভীর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার তিলোচনপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরিবারে তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেঝো সন্তান।
পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানভীর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। উগ্র আচরণের কারণে চার মাস আগে তাকে মালিবাগ এলাকার শাহজালাল কমপ্লেক্সের ৯ম তলায় অবস্থিত ‘আলোকিত ইনসান ইসলামিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পরামর্শ কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় কেন্দ্রটির মালিক মো. ফখরুল ইসলাম আজাদ (৫৫) পরিবারকে দ্বীনি পরিবেশে রাখা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের আশ্বাস দেন। এসব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মাসিক ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে তানভীরকে সেখানে ভর্তি করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের পশ্চিম ওয়ার্ডে জানালা খোলা নিয়ে তানভীরের সঙ্গে অপর এক রোগী মো. তাওহিদুল ইসলামের (১৬) ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ড সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফার (৫৪) উপস্থিতিতে তাওহিদুল ইসলাম তানভীরকে জোরে ধাক্কা দিলে তিনি ফ্লোরে পড়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। মারধরের সময় তার অণ্ডকোষে লাথি দেওয়ার অভিযোগও করেছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আহত হওয়ার পরও তানভীরকে কোনো চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি। বরং তাকে অন্য একটি ওয়ার্ডে সরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং বিষয়টি গোপন রেখে পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি।
পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে কেন্দ্র থেকে ফোন করে তানভীরের চাচা আব্দুল ছাত্তার মিয়াকে জানানো হয়, তানভীর গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও খোঁজ করেন। পরে চাপ সৃষ্টি করলে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে রিহ্যাব সেন্টারের সামনে তানভীরকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বোন তামান্না আফরিন কেয়া (৩০) বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিহ্যাব সেন্টারের মালিক মো. ফখরুল ইসলাম আজাদ, ওয়ার্ড সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, রোগী মো. তাওহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রমনা থানার ওসি রাহাত খান যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফখরুল ইসলাম আজাদ ও মো. তাওহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই চার মাস পরই রিহ্যাব থেকে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।