January 15, 2026, 11:45 am
Title :

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস-ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ, জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

Reporter Name
  • Update Time : Monday, January 12, 2026
  • 14 Time View

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রোববার (১১ জানুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে ১৮ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া জামালপুরে ৪ জন, নওগাঁয় ৯ জন, কুড়িগ্রামে ১১ জন, দিনাজপুরে ১৬ জন, রংপুরে ২ জন, টাঙ্গাইলে ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ জনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইসভিত্তিক প্রতারণার একটি ভয়াবহ চিত্র জাতির সামনে উঠে এসেছে, যা পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এই প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একজন বিশেষ সহকারী পদমর্যাদার ব্যক্তির ড্রাইভারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা ও দায়িত্বশীল মহলের নজরদারির ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারি কর্ম কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের।”

বিবৃতিতে তারা বলেন, “বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মেধাবীদের বঞ্চিত করে অর্থ ও প্রভাবশালী জালিয়াত চক্রকে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। এর ফলে একদিকে শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে অযোগ্য ও অনৈতিক ব্যক্তিদের তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বা দুর্ঘটনাজনিত নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিহীনতার ফল।”

নেতৃবৃন্দ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

সবশেষে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com