অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে ১৯৯৪ সালের ১৫ রমজান ভোরে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনার ৩২ বছর পেরিয়ে গেছে। সেদিন ফজরের নামাজের সময় এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালালে ২৯ ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত এবং ১২৫ জনের বেশি আহত হন। ঘটনাটি শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং মসজিদটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক চরিত্রে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের সূচনা করে। এখনও সেই শোকাবহ পরিবেশ রয়ে গেছে সেই মসজিদে।
হামলার পর মসজিদটি টানা নয় মাস বন্ধ রাখা হয়। পরে ইসরায়েল একতরফাভাবে তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় স্থানটি মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার। বর্তমানে নামাজের দুই-তৃতীয়াংশ স্থান ইহুদি উপাসকদের জন্য বরাদ্দ, বাকি অংশ মুসলমানদের জন্য। নির্দিষ্ট ইহুদি ধর্মীয় দিবসে মুসলমানদের পুরোপুরি প্রবেশে বাধা দেয়া হয়; বিপরীতে ইসলামি দিবসে মুসলমানদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকলেও তা সবসময় কার্যকর থাকে না। সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
ইব্রাহিমি মসজিদ-যা ‘পিতৃপুরুষদের সমাধিস্থল’ নামেও পরিচিত যা ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের কাছে সমান পবিত্র। ইসলামী শাসনামলে এটি মসজিদে রূপান্তরিত হয় এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী সেই মর্যাদা বহাল ছিল। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর ধীরে ধীরে সেখানে ইহুদি উপাসনার স্থান স্থাপন করা হয় এবং আশপাশে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতিও বাড়ে।
আরও পড়ুন: শিয়া অক্ষকে ছাপিয়ে ইসরায়েলের নতুন আতঙ্ক সুন্নি অক্ষ, নেতৃত্বে তুরস্ক
১৯৯৭ সালের হেবরন প্রটোকল অনুযায়ী শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়-এইচ১ (ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ) ও এইচ২ (ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ)। এইচ২ এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ও প্রায় ৭০০ বসতি স্থাপনকারী বাস করেন; তাদের নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সেনা। মসজিদে প্রবেশে কড়া তল্লাশি, একাধিক চেকপয়েন্ট এবং আজানের ওপর বিধিনিষেধ-সব মিলিয়ে মুসল্লিদের জন্য নিয়মিত ইবাদত কঠিন হয়ে উঠেছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসনিক ও নির্মাণসংক্রান্ত ক্ষমতা ইসরায়েলের হাতে ন্যস্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা স্থানটির ইসলামি চরিত্রকে আরও সংকুচিত করতে পারে। রমজানে পানি ও খেজুর প্রবেশে বাধা, কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সাময়িক বহিষ্কার-এসব অভিযোগও উঠেছে।
৩২ বছর পরও ইব্রাহিমি মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা এবং হাজারো মানুষের ক্ষোভ আজও প্রশমিত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ‘এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়; আমাদের ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক অধিকারের প্রতীক।’