ভোলা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত প্রার্থীর করা একটি আপিল গ্রহণ করে তা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে, ওই আবেদনটি আগে গ্রহণ না করায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
গত ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল করিম বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ‘সার্টিফাইড কপি’ বা প্রয়োজনীয় নথির অজুহাতে সেই আবেদনটি গ্রহণ করেনি। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফজলুল করিম হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
হাইকোর্ট তাঁর আদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন আবেদনটি অবিলম্বে নিবন্ধন করা হয় এবং হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তথ্যের ভিত্তিতে (On merit) যাচাই করে দ্রুত সমাধান করা হয়।
হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো কী?
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, হাফিজ ইব্রাহিম ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (RPO) নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া তার স্ত্রী সন্তানের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি এবং নিজ সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
বিশাল অংকের ঋণ খেলাপি: হাফিজ ইব্রাহিমের পরিবারের মালিকানাধীন ‘ফেয়ারী শিপিং লাইনস’-এর নামে প্রায় ৬৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এই কোম্পানির অধীনেই বিখ্যাত ‘এমভি তাসরিফ’ ১ থেকে ৪ সিরিজের লঞ্চগুলো চলাচল করে। এই কোম্পানির চেয়ারম্যান তার স্ত্রী মাফরুজা সুলতানা।
‘ফেয়ারী হোম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ কোম্পানির নামে প্রায় ২৬ কোটি টাকা এবং ‘দ্য টাইমস প্রিন্টিং প্রেস’-এর নামে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী ও পুত্র ব্যারিস্টার মারুফ ইব্রাহীম আকাশ এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হলেও নির্বাচনী হলফনামায় এই তথ্যগুলো জানানো হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া মাফরুজা সুলতানার ব্যক্তিগত ৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা বর্তমানে ‘মন্দমান’ বা আদায় অযোগ্য খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত।
একইসঙ্গে হাফিজ ইব্রাহিম তার হলফনামায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ দেখালেও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাঁর প্রকৃত সম্পদের হিসেবে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার গরমিল রয়েছে।
এখন কী হবে?
হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশনে হাফিজ ইব্রাহিমের প্রার্থিতা নিয়ে করা চ্যালেঞ্জটি আবার সচল হলো। আদালত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলেছেন। যদিও হাফিজ ইব্রাহিম আজ সুপ্রিম কোর্টে এই আদেশেরর বিপরীতে চ্যাম্বার জাজ আদলতের দারস্থ হয় ফলে আদালত “স্টেন্ড ওভার” আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ এই আদেশ দিলেও নির্বাচন কমিশনের জামায়াতের প্রার্থীর আপিল ফাইল করতে কোন বাধা নেই।