জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ ১২২টি সংসদীয় আসনে ১৩২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী ঘোষণা করে জোটটি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু।
৯ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির একাংশ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোট হয়।জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ মোট ১৮টি দল রয়েছে এই জোটে।
এনডিএফের শরিক দলগুলো হলো জাতীয় পার্টির (জাপা) আনিসুল ইসলামী নেতৃত্বাধীন অংশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি), জনতা পার্টি বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (মহসিন রশিদ), জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি, অ্যালায়েন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোট, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ), ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণ আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘সারা দেশে মব সন্ত্রাস চলছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা ও বরেণ্য সাংবাদিক—কেউই এর বাইরে নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ, বরেণ্য সাংবাদিক নুরুল কবিরকে নাজেহাল, ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা, লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিয়ে তার শিশু কন্যাকে হত্যা, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও ছায়ানটে ভাঙচুর, উদীচী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার অপচেষ্টা এবং খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলির ঘটনা—সবকিছুই দেশের ভয়াবহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।’
হাওলাদার বলেন, ‘দেশ এখন অনিরাপদ ও অগ্নিগর্ভ। এমন পরিস্থিতিতে সরকার কীভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’