বলিউড অভিনেতা অক্ষয় খান্নার ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা নিয়ে চলছে নতুন করে আলোচনা। নির্মাতা আদিত্য ধরের এ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই অক্ষয়ের লুক ও নাচ নিয়ে চর্চা চলছে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে বিস্তর গুঞ্জন। দর্শকরা যখন অভিনেতার নতুন সিনেমার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই জানা গেল ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে বাদ পড়েছেন। এতদিন বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও এবার মুখ খুলেছেন সিনেমাটির প্রযোজক কুমার মঙ্গত পাঠক।
প্রযোজকের অভিযোগ, সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’ থেকে অক্ষয় খান্না বাদ পড়া নিয়ে কয়েক দিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে চলছে গুঞ্জন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি ভারতীয় গণমাধ্যম। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিনেমাটির প্রযোজক কুমার মঙ্গত পাঠক সরাসরি অভিযোগ তুললেন অক্ষয়ের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, অক্ষয়ের ‘অপেশাদার আচরণে’ তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ কারণে অভিনেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন, অক্ষয়ের জায়গায় অভিনয় করবেন জয়দীপ আহলাওয়াত।
কুমার মঙ্গত বলেন, আমরা অক্ষয় খান্নার সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম। তার পারিশ্রমিকও বেশ কয়েকবার আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হয়। তিনি শুরুর দিকে চরিত্রে পরচুলা পরতে চান। কিন্তু পরিচালক অভিষেক পাঠক তাকে বোঝান— এটি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ আগের কিস্তি যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হবে নতুন পর্বটি। হঠাৎ চুল এসে যাওয়ার বিষয়টি কন্টিনিউটির সমস্যা তৈরি হবে।
প্রযোজক বলেন, প্রাথমিকভাবে পরিচালকের এ যুক্তি তখন অক্ষয় মেনে নেন। পরে অক্ষয়ের আশপাশের লোকজন তাকে আবার পরচুলা পরার বিষয়ে উসকানি দেন। উইগ পরলে তাকে আরও স্মার্ট দেখাবে বলে জানান।
কুমার মঙ্গত বলেন, এরপর অক্ষয় আবার সেই দাবি তোলেন। অভিষেক পাঠক তখনো আলোচনায় বসতে রাজি ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অক্ষয় জানিয়ে দেন— তিনি আর ছবিটি করতে চান না।
প্রযোজক বলেন, একসময় অক্ষয় খান্নার কার্যত কিছুই ছিল না। সেই সময় আমি তাকে নিয়ে ২০১৯ সালে ‘সেকশন ৩৭৫’ নির্মাণ করি। তখনো অনেকেই আমাদের সতর্ক করেছিলেন— তার আচরণ নাকি খুবই অপেশাদার। সেটে তার উপস্থিতি ছিল বিষাক্ত।
কুমার মঙ্গত বলেন, মনে রাখতে হবে— ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মুখ অজয় দেবগন। ‘ছাবা’ সিনেমা ভিকি কৌশলের ছবি, ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিংয়ের। অক্ষয় খান্না যদি একা নায়ক হয়ে ছবি করেন, তাহলে সেই ছবি ভারতে ৫০ কোটি টাকাও তুলতে পারবে না। কেউ যদি মনে করেন, তিনি এখন সুপারস্টার হয়ে গেছেন, তাহলে বড় বাজেটের একক সিনেমা নিয়ে কোনো স্টুডিওকে রাজি করিয়ে দেখান। কিছু অভিনেতা মাল্টিস্টারার সিনেমার সাফল্যের পর নিজেকে তারকা ভাবতে শুরু করেন। অক্ষয়ের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। সাফল্য তার মাথায় উঠে গেছে। ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার সাফল্যের কৃতিত্বও অক্ষয় নিজের বলে দাবি করেছেন বলে মনে করেন কুমার মঙ্গত পাঠক।
প্রযোজক আরও বলেন, আলিবাগে অক্ষয়ের খামারবাড়িতে যখন তাকে চিত্রনাট্য শোনানো হয়, তখন তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন—এটা ৫০০ কোটির সিনেমা। জীবনে এমন স্ক্রিপ্ট শুনিনি। তিনি পরিচালক অভিষেক পাঠক আর লেখককে জড়িয়ে ধরেন। এরপর পারিশ্রমিক ঠিক হয়, চুক্তিসই হয়। আমরা তাকে অগ্রিম দিই। তার পোশাকের জন্য ডিজাইনারকেও টাকা দেওয়া হয়। আর শুটিংয়ের মাত্র ১০ দিন আগে তিনি সিনেমাটি ছেড়ে দেন।