গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, অতীতের মতো কালো রাজনীতির পরিবেশ আমরা দেখতে চাই না। দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে হানাহানি সংঘাত সহিংসতা থাকবে না। নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব থাকবে। তাহলেই খালেদা জিয়াকে স্মরণ করা সার্থক হবে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকায় ঢাকাস্থ গলাচিপা-দশমিয়ার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

নুরুল হক নুর বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে যে বাংলাদেশের কথা বলছি, সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যে আহ্বানটি এসেছিল ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের অস্থির সময়ে বাংলাদেশের আরেক রাখাল রাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে।

সে সময়ে তিনি অল্প সময়ে বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। আমাদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দেশের আপামর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্নে ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আগ্রাসনের প্রশ্নে কঠোর ভূমিকায় ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিদেশে আমাদের কোনো ঠিকানা নেই। আমাদের প্রভু নাই, আমাদের বন্ধু আছে। তিনি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য আপসহীন ছিলেন।

নুরুল হক নুর আরো বলেন, আল্লাহ যাকে চান তাকে সম্মানিত করেন। আবার যাকে চান তাকে লাঞ্ছিত করেন।

বিগত কঠিন সময়ে আমরা একজন ব্যক্তির আওয়াজ নিয়মিত শুনেছি তিনি হচ্ছেন ড. আসিফ নজরুল। অনেকেই তাকে ভিপি নুরের লোক বলে থাকেন। কিন্তু ওই কঠিন সময়ে যে কয়জন শিক্ষক কথা বলেছেন, আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এর মধ্যে তিনিই একজন। ৫ আগস্টের পর আসিফ নজরুলের চরিত্র হনন করা হয়েছে, ভারতীয় দালাল বানানো হয়েছে। মির্জা ফখরুলকে ভারতীয় দালাল বানানো হয়েছে। সালাহ উদ্দিন আহমদ, আমির খসরু, রুমিন ফারহানাকে ভারতীয় দালাল বানানো হয়, আমাদেরকে দালাল বানানো হয়, ইসরায়েলের লোক বানায়। ৫ আগস্টের আগে অনেকেই আমাদের পক্ষে ছিল। সরকারবিরোধী কথা বলায় আমরা তাদের লাইক করেছিলাম। কিন্তু এই কালপ্রিটগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে মব ভায়োলেন্স করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে আমাদের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আপনার মতের সঙ্গে কারো মত নাই মিলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রোফাইল দেখলে বুঝবেন কোন দল কোন দলের সমর্থক। এভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব নয়।