আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ (সংশোধিত)-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি নিজে করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ।
আবেদনটিতে ১৯৭৩ সালের ওই আইনকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতা হারানো’ ও রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিপক্ষ দমন করার হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করে সেটি বাতিলের নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছিল রিটে। রিটে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ-কালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে ১৯৭৩-এর আইন করা হয়েছিল এবং মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধে জড়িত সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা; পরে শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির পর সকল যুদ্ধবন্দীর নিঃশর্ত প্রত্যাবাসনের কারণে তখনই ওই আইনের আওতায় বিচারের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল।
রিটে আরও দাবি করা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ঐ আইনকে রাজনৈতিক কারণে পুনরুজ্জীবিত করে বিরোধীদল নেতাদের লক্ষ্য করে ‘বিচারিক হত্যা’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। তাছাড়া রিটে উল্লেখ ছিল যে সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদের পরিপন্থীভাবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের ট্রাইব্যুনালে বিচারক রাখা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব যুক্তি কেন গ্রহণযোগ্য নয়, তা বিবেচনা করে হাইকোর্ট রিটটি নামঞ্জুর করেছেন।