রাজধানীসহ দেশের নানা অঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি-চালিত যানবাহনে তীব্র কষ্ট দেখা দিয়েছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও পুরান ঢাকা এলাকায় দিনে দিনে গ্যাস পাওয়া যায় না বা চাপ খুবই কম থাকে, ফলে ঘরেই রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন, যা বাড়তি মাসিক খরচ বাড়িয়েছে; আগে আধা ঘণ্টায় যেসব রান্না হতো, এখন তা করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ঘটনা সাধারণ ঘটেছে; অনেকেই বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস নিতে পারছেন না, ফলে চালকদের আয় কমছে এবং কর্মঘণ্টা শেষ করে ঘর ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এ ছাড়াও গ্যাসনির্ভর শিল্প-কারখানায় বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্বাভাবিক চাপ না পেয়ে প্রায় অর্ধেকের চেয়েও কম উৎপাদন হচ্ছে; কোথাও উৎপাদন লাইন স্থগিত রাখতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়ানো এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
তিতাস সোমবার জানিয়েছে মেঘেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে, যা গ্যাসচাপ কম থাকার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (একটি গোলটেবিল বৈঠকে ২৭ জুলাই) বলেছেন, একটি ভাসমান এফএসআরইউতে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটের মেরামত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ১০–১৫ দিন সময় লাগতে পারে; মেরামত চলছে, কিন্তু তা শেষ না হলে গ্যাস সরবরাহ ও গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার অবস্থা থাকবে।