রাজধানীর মগবাজার এলাকায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সামনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে সিয়াম মজুমদার (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত সিয়াম নিউ ইস্কাটন রোডের ‘জাহিদ কার ডেকোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার দিকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে শক্তিশালী একটি ককটেল নিচে নিক্ষেপ করা হয়। ককটেলটি সিয়ামের মাথায় পড়ে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং মুহূর্তের মধ্যেই মারা যান।
ঘটনাস্থলে থাকা ফারুক নামে এক চা-দোকানি জানান, সিয়াম চা খাওয়ার জন্য তার দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চা দিতে বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওপর থেকে ককটেল এসে তার মাথায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেলটি সরাসরি সিয়ামের মাথায় আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়। এতে তার মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সিয়ামের বাবা-মা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহতের বাবা আলী আকবর বলেন, “আমি একজন রিকশাচালক। আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। নিরপরাধ আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো—আমি এর বিচার চাই।” নিহতের মা শিজু বেগম ছেলের নাম ধরে আহাজারি করতে করতে বারবার অচেতন হয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই রমনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডিবি পুলিশ, সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ককটেল সন্ত্রাসের অংশ, যার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।