সংযুক্ত আরব আমিরাতে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশিসহ বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশটির আইন অনুযায়ী, ভিক্ষা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এতে ধরা পড়লে কারাদণ্ডসহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। অথচ এ কঠোরতার তোয়াক্কা না করেই একশ্রেণির প্রবাসী সাহায্য চাওয়ার আড়ালে এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত অধিকাংশ বাংলাদেশিই দীর্ঘমেয়াদী বৈধ রেসিডেন্সি ভিসাধারী। তারা বিভিন্ন সময় অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে মোল্লার বেশ ধরে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি করার বিষয়টি এখন এক ধরনের মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরে আমিরাত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করেছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১০ লাখ সাধারণ ও পরিশ্রমী প্রবাসীর ওপর।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অল্প কিছু মানুষের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে সামগ্রিক প্রবাসী কমিউনিটি চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও সাধারণ প্রবাসীদের দাবি, শুধুমাত্র নীতিমালার ওপর নির্ভর না করে এসব অপকর্ম রোধে কার্যকর নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নতুবা সামগ্রিকভাবে আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসীদের অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।