কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে পরিচালিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দারুণ এক জীববৈচিত্র্যের তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ গবেষণার পর এই বনাঞ্চলে মোট ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই উপকূলীয় বনভূমি যে বন্যপ্রাণীর জন্য এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আবাসস্থল, তা এই আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।
গবেষণা চলাকালীন ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে বনের গভীরে চলাফেরা করা অত্যন্ত লাজুক ও দুর্লভ কিছু প্রাণীর ছবি ধরা পড়ে। এই ক্যামেরা ট্র্যাপেই বিশেষ করে ধরা পড়ে অতি বিপন্ন ক্যাটাগরির বন্য প্রাণী মেঘলা চিতা বা ক্লাউডেড লেপার্ডের উপস্থিতি। মেঘলা চিতাসহ আরও বেশ কিছু বন্যপ্রাণীর এই উপস্থিতি গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
উদ্ধার হওয়া তথ্যানুযায়ী, ইনানীর এই জাতীয় উদ্যানে মেঘলা চিতা ছাড়াও আরও নানা প্রজাতির মূল্যবান বন্যপ্রাণী স্বাধীনভাবে বসবাস করছে। বনের পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খল এখনও যে অনেকাংশেই সক্রিয় রয়েছে, এই প্রাণীদের উপস্থিতি তারই একটি স্পষ্ট প্রমাণ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এই বনাঞ্চল যে এখনও বহু বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে আছে, তা গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে বন্যপ্রাণী গবেষক এবং সংরক্ষণবাদীরা এই এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপযুক্ত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ এবং কঠোর নজরদারির অভাবে এই অঞ্চলের বিরল বন্যপ্রাণীগুলো এখনও নানা ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। তাই ইনানী জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ রক্ষা এবং মেঘলা চিতাসহ অন্যান্য প্রাণীদের নির্বিঘ্ন চলাফেরা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।