September 15, 2026, 5:21 am

নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় আর হামলা চালাবে না রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, September 15, 2026
  • 1 Time View

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চলমান সংঘাতের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ না করার বিষয়ে একমত হয়েছে। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করার উদ্দেশ্যেই এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোও নিয়মিত আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায়ই দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি উৎপাদনের কেন্দ্রগুলোতে সফলভাবে আঘাত হানত। এর জবাবে রুশ বাহিনীও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্রিডে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছিল। এই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে ট্রাম্প পরিষ্কার করে জানান যে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আর আক্রমণ না চালানোর বিষয়ে ইউক্রেন প্রশাসন সম্মতি জ্ঞাপন করেছে এবং এর বিপরীতে রাশিয়াও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি ইউক্রেনীয় নেতৃত্বকে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে তার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তাকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ট্রাম্পের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির চেয়ে এই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধই বেশি ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাশিয়ায় সামরিক বা কৌশলগত আঘাত হানার মতো আরও বহু লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, কিন্তু জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের খেসারত দিতে হয় বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। উভয় পক্ষের এই আক্রমণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com