গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় শুরু হয়েছে আকর্ষণীয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন প্রমত্তা পদ্মা নদীতে এই তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামীণ উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পদ্মাপাড়জুড়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমান এবং অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন।
উদ্বোধনী দিনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বেশ কয়েকটি সুসজ্জিত ও বড় আকৃতির নৌকা অংশ নেয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে মোট আটটি শক্তিশালী দল অংশ নিচ্ছে এবং প্রথম দিনেই চারটি রোমাঞ্চকর বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে উলাট একতা এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে ‘নিউ শাপলা’ নৌকা জয় তুলে নেয়। এছাড়া অন্যান্য পর্বে চর গোবিন্দপুর, দুলদুল এক্সপ্রেস এবং কুষ্টিয়ার লালন দলকে হারিয়ে যথাক্রমে ‘নিউজ জনতার সংগ্রাম’, খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার ও পাবনার সুজানগরের রায় শিমুল একতা এক্সপ্রেস বিজয়ী হয়।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে বসেছে জমজমাট গ্রামীণ মেলা, যা এই উৎসবের আমেজকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেলায় নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক উপাদানের পাশাপাশি মুখরোচক খাবার, খেলনা এবং হরেক রকমের কুটির শিল্প পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। নদীপারের উৎসুক দর্শনার্থীরা কেউ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ ছোট নৌকায় চড়ে হাততালি ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
আয়োজক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নৌকাবাইচ কেবল একটি বিনোদনমূলক খেলা নয়, এটি বাংলার আবহমান সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে তারা জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান রুমা, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।