চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সম্প্রতি এই প্রথমবারের মতো কোনো রোগীর শরীরে সফলভাবে কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের একদল দক্ষ চিকিৎসক এই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই অর্জনের ফলে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন নিজ এলাকা থেকেই অত্যন্ত উন্নত মানের এই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ষাটোর্ধ্ব বিবিজান দীর্ঘদিন ধরে তীব্র হাঁটুব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর জানা যায় যে তিনি অস্টিওআর্থ্রাইটিস নামক গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার হাঁটুর হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষয় হয়ে গেছে। এই রোগের কারণে তার হাঁটু পুরোপুরি বাঁকা ও শক্ত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তিনি একা একা কোনোভাবেই স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না। রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা ও কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা দ্রুত তার ক্ষতিগ্রস্ত হাঁটুতে কৃত্রিম জোড় লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সফল এই অপারেশনটিতে নেতৃত্ব দেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন। তার সঙ্গে এই অস্ত্রোপচার দলে আরও অংশ নেন ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, ডা. সফিকুল ইসলাম, ডা. সাইদ আহমেদ, ডা. মাতিউল ইসলাম এবং ডা. সালেহীনসহ বিভাগের অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সহযোগীরা। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া এই চিকিৎসায় রোগীর পরিবার ও চিকিৎসকরা দারুণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অস্ত্রোপচারের সফলতার বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপনের ফলে রোগী এখন ধীরে ধীরে তার হাঁটুর কার্যক্ষমতা ফিরে পাবেন। তিনি খুব শীঘ্রই কোনো ধরনের তীব্র ব্যথা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং নিজের দৈনন্দিন কাজগুলো নিজে করতে পারবেন। তবে পুরোপুরি সুস্থতার জন্য রোগীকে চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রামেক হাসপাতালে এখন থেকে এই ধরনের অস্ত্রোপচার নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অতীতে এই বিশেষ চিকিৎসার জন্য রোগীদের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাইরে কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হতো। কিন্তু এখন স্থানীয় পর্যায়ে এই সুবিধা চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের অর্থ এবং সময় দুটোরই সাশ্রয় হবে এবং চিকিৎসা সেবা আরও বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠবে।